সাম্যবাদী
কাজী নজরুল ইসলাম
শব্দার্থ ও টীকা :
সাম্য – সমদর্শিতা। সমতা।
সাম্যবাদ – জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল মানুষের সমান অধিকার থাকা উচিত এই মতবাদ।
পার্সি – পারস্যদেশের বা ইরানের নাগরিক।
জৈন – জিন বা মহাবীর প্রতিষ্ঠিত ধর্মমতাবলম্বী জাতি।
গারো – গারো পর্বত অঞ্চলের অধিবাসী।
কন্ফুসিয়াস – চীনা দার্শনিক।
চার্বাক – একজন বস্তুবাদী দার্শনিক ও মুনি।
জেন্দাবেস্থা – পারস্যের অগ্নি উপাসকদের ধর্মগ্রন্থ আবেস্থা এবং তার ভাষা জেন্দা।
যুগাবতার – বিভিন্ন যুগে অবতীর্ণ মহাপুরুষ।
দেউল – দেবালয়। মন্দির।
ঝুট – মিথ্যা।
নীলাচল – জগন্নাথক্ষেত্র।
কাশী, মথুরা, বৃন্দাবন, গয়া – হিন্দুদের পবিত্র ধর্মীয় কয়েকটি স্থান।
জেরুজালেম – বায়তুল-মোকাদ্দস।
শাক্যমুনি – শাকবংশে জন্ম যার।
কন্দরে – পর্বতের গুহা।
আরব-দুলাল – হজরত মুহাম্মদ (স)।
কোরানের সাম্য-গান – পবিত্র কোরানের সাম্যের বাণী।
কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ
গাহি সাম্যের / গান- (৬ + ২)
যেখানে আসিয়া / এক হয়ে গেছে / সব বাধা-ব্যব / ধান ৬ + ৬ + ৬ + ২)
যেখানে মিশেছে / হিন্দু-বৌদ্ধ / মুসলিম ক্রিশ / চান। (৬ + ৬ + ৬ + ২)
গাহি সাম্যের / গান (৬ + ২)
বিশ্লেষণ : ‘সাম্যবাদী কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। কবিতা থেকে উপরের চারটি পংক্তি বা চরণ ছন্দ বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, কবিতার পংক্তিগুলোর অধিকাংশ ৬ মাত্রার ৩টি পূর্ণ পর্ব ও ২ মাত্রার অপূর্ণ পর্বে বিভক্তি। উপরের চার চরণের প্রথম ও চতুর্থ চরণে একটি করে ৬ মাত্রার পূর্ণ পর্ব এবং একটি করে ২ মাত্রার অপূর্ণ পর্ব রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় চরণে তিনটি ৬ মাত্রার পূর্ণ পর্ব এবং একটি করে ২ মাত্রার অপূর্ণ পর্ব রয়েছে। সম্পূর্ণ কবিতাটিতেই পর পর দুচরণের শেষে অন্তমিল রয়েছে। কবিতার গতি মধ্যে বা বিলম্বিত লয়ের।
সারমর্ম :
আব্দুল কাদির সম্পাদিত বাংলা একাডেমিক থেকে প্রকাশিত ‘নজরুল রচনাবলির প্রথম খণ্ড থেকে ‘সাম্যবাদী কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘সাম্যবাদী কাব্যের অন্তর্ভূক্ত এ কবিতাটিতে বৈষম্যাবিহীন অসা¤প্রদায়িক মানব সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত হয়েছে। কবি এই ‘সাম্যের গান গেয়েই গোটা মানব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে আগ্রহী। কবির বিশ্বাস মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে পরিচিত হয়ে ওঠার চেয়ে সম্মানের আর কিছু হতে পারে না। নজরুলের এই আদর্শ আজও প্রতিটি সত্যিকার মানুষের জীবনপথের প্রেরণা। কিন্তু মানুষ এখনও স¤প্রদায়কে ব্যবহার করে রাজনীতি করছে, মানুষকে শোষণ করছে, একের বিরুদ্ধে অন্যকে উস্কে দিচ্ছে। ধর্ম বর্ণ গোষ্ঠীর দোহাই দিয়ে মানুষকে পরস্পর থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। নজরুল এই কবিতায় সুস্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। “মানুষেরই মাঝে স্বর্গ নরক মানুষেতে সুরাসুর।” তাই তিনি জোর দেন অন্তর ধর্মের ওপর। ধর্মগ্রন্থ পড়ে যে জ্ঞান মানুষ আহরণ করতে পারে, তাকে যথোপযুক্তভাবে উপলদ্ধি করতে হলে প্রয়োজন প্রগাঢ় মানবিকতাবোধ। মানুষের হৃদয়ের চেয়ে যে শ্রেষ্ঠ কোন তীর্থ নেই, এই প্রতীতি কবির স্বোপার্জিত অনুভব। এ কারণেই কবি মানবিক মেলবন্ধনের এক অপূর্ব সংগীত পরিবেশন করতে আগ্রহী। এ গানে মানুষে মানুষে সব ব্যবধান ঘুচে যাবে। মানবতার সুবাস ছড়ানো আত্মার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই জীবনকে পবিত্রতম করে তোলা সম্ভব, এই মর্মবাণীকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই কবিতার নজররূপের অন্বিষ্ট।
পাঠ বিশ্লেষণ :
গাহি সাম্যের গান
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
কে তুমি?- পার্সী? জৈন? ইহুদী? সাঁওতাল, ভীল, গারো?
কনফুসিয়াস? চার্বাক-চেলা? বলে যাও, বলো আরো!
মানবতাবাদী কবি সাম্যের জয়গান করেন। সাম্যবাদের মধ্যে কোন বাধা-ব্যবধান নেই-সবাই সমান। সেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টান সবাই সমান। তাঁর দৃষ্টিতে পার্সি, জৈন, সাঁওতাল, ভিল, গারো, কনফুসিয়াস, চার্বাক-চেলা যে যাই বলুক সবাই মানুষ, সবাই সমান। সবার জন্যই কবির সমান দরদ।
বন্ধু, যা-খুশি হও
পেটে পিঠে কাঁধে মগজে যা-খুশি পুঁথি ও কেতাব বও,
কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-ত্রিপিটক
জেন্দাবেস্তা- গ্রন্থ সাহেব পড়ে যাও, যত সখ,-
কিন্তু কেন এ পণ্ডশ্রম, মগজে হানিছ শূল?
দোকানে কেন এ দর-কষাকষি?- পথে ফোটে তাজা ফুল!
যার যা খুশি হোক, যার যত খুশি পুঁথি পুস্তক বয়ে বেড়াক প্রধান প্রধান ধর্মগ্রন্থ যেমন : কুরান, পুরাণ-বেদ-বেদান্ত, বাইবেল-ত্রিপিটক পড়–ক, তা কেবল মগজই নষ্ট করবে। বিশেষ কোন লাভ হবে না। সেগুলো দোকানে দর কষাকষি করে ফুল কেনার মতো বোকামির তুল্য। কারণ বিনা দরে পথেই যখন তাজা ফুল পাওয়া যায়, তখন তা যতে সংগ্রহ করলেই হয়। অর্থাৎ ধর্মগ্রন্থ নয়, পথের পাশের ক্লীষ্ট-ক্লান্ত মানুষের উপকারই বড়ো ধর্মগ্রন্থের পরিচায়ক।
তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান,
সকল শাস্ত্র খুঁজে পাবে সখা খুলে দেখ নিজ প্রাণ!
তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল যুগবতার,
তোমার হৃদয় বিশ্ব-দেউল সকলের দেবতার।
কেন খুঁজে ফের দেবতা ঠাকুর মৃত-পুঁজি-কঙ্কালে?
হাসিছেন তিনি অমৃত-হিয়ার নিভৃত অন্তরালে!
এই সত্যবাণী কেতাবে খুঁজে, শাস্ত্র ঘেঁটে উদ্ধার করার চেষ্টা কর বৃথা। কারণ ঐসব কেতাব, গ্রন্থ, শাস্ত্র খোঁজার আগে নিজের প্রাণ খুলে সেখানে অনুসন্ধান করতে হবে। সেখানে সকল কালের জ্ঞানের সত্যের সন্ধান লাভ হবে। সেখানে সকল কালের সত্যের সন্ধান লাভ হবে। সেখানে সকল কালের জ্ঞানের সত্যের সন্ধান লাভ হবে। কারণ মানুষের হৃদয়ই সকল দেবতার বিশ্ব-দেবালয়। হৃদয়েই সকল ধর্ম, সকল যুগাবতারের অবস্থান। তাঁকে প্রাণহীন বইপত্রে খুঁজে কী লাভ? তিনি তো সেখানে থাকেন না। তিনি অবস্থান করেন অমৃত-হিয়ার অন্তরালে।
বন্ধু, বলিনি ঝুট,
এইখানে এসে লুটাইয়া গড়ে সকল রাজমুকুট।
এই হৃদয়ই সে নীলাচল, কাশী, মথুরা, বৃন্দাবন,
বুদ্ধ-গয়া এ, জেরুজালেম এ, মদিনা, কাবা-ভবন,
মসজিদ এই, মন্দির এই, গির্জা এই হৃদয়,
এইখানে বসে ঈসা মুসা পেল সত্যের পরিচয়।
এটা মিথ্যা নয়, এটাই সত্য-নির্ভুল। জগতের সকল রাজার রাজমুকুটের মহিমা চূর্ণ হয় মানুষের সুন্দর হৃদয়ের কাছে। মানুষের হৃদয় সিংহাসনই সবচেয়ে আরাধনার বস্তু। হৃদয়ই নীলাচল, কাশী, মথুরা বৃন্দাবন, বুদ্ধ গয়া, জেরুজালেম, মদিনা, কাবা। কারণ সমস্ত বিশ্বাসের মূলেই হৃদয়ের ক্রিয়া। মসজিদ, মন্দির, গির্জায় যে বিশ্বাসের বাণী প্রচার হয় তার মূলে মানুষ। আর মানুষের সবচেয়ে বড়ো হচ্ছে আপন হৃদয়। এই হৃদয়ের জোরেই ঈসা মুসা সত্যের সন্ধান করেছেন এবং সত্য লাভ করেছেন।
এই রণ-ভূমে বাঁশির কিশোর গাহিলেন মহা-গীতা,
এই মাঠে হল মেষের রাখাল নবিরা খোদার মিতা।
এই হৃদয়ের ধ্যান-গুহা-মাঝে বসিয়া শাক্যমুনি
ত্যাজিল রাজ্য মানবের মহা-বেদনার ডাক শুনি।
এই হৃদয়ের আঙ্গিনাতেই মহা-গীতা ধ্বনিত হয়। এই হৃদয়ের জোরেই রাখাল খোদার দোস্তি লাভ করেন। শাক্যমুনি গুহায় ধ্যান করেন এই হৃদয়ের শুদ্ধতার জন্যই। তিনি রাজ্য ছেড়ে বেদনাহত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান এই হৃদয়ের টানেই।
এই কন্দরে আরব-দুলাল শুনিতেন আহ্বান
এখানে বসি গাহিলেন তিনি কোরানের সাম-গান!
ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মহানবি হযরত মুহম্মদ (স) পাহাড়ের গুহায় এই হৃদয়ের ধ্যানেই মহান আাল্লাহর বাণী লাভ করেন এবং পবিত্র কোরআনের সাম্যের বাণী প্রচার করেন।
সাম্যবাদী সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ লাইন
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান,
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম ক্রিশ্চান।
হাসিতেছেন তিনি অমৃত-হিয়ার নিভৃত অন্তরালে!
এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল রাজমুকুট।
মস্জিদ এই, মন্দির এই, গির্জা এই হৃদয়।
এইখানে বসে ঈসা মুসা পেল সত্যের পরিচয়।
মিথ্যা শুনিনি ভাই
এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির কাবা নাই।
মিথ্যা শুনিনি ভাই,
এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোন মন্দির-কাবা নাই।
কবি যা শুনেছেন, তা সত্যি। ধর্ম নয়, মানুষের হৃদয়ই শ্রেষ্ঠ। মন্দির, মসজিদের চেয়েও বড়ো মানুষের হৃদয়।
গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (জ্ঞানমূলক)
১। ‘সাম্যবাদী কবিতাটি নেয়া হয়েছে – নজরুল রচনাবলি গ্রন্থের ১ম খণ্ড থেকে।
২। ‘নজরুল রচনাবলি গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – বাংলা একাডেমি থেকে।
৩। ‘নজরুল রচনাবলি গ্রন্থটি সম্পাদন করেন – আবদুল কাদির।
৪। ‘সাম্যবাদী কাব্যটি প্রকাশিত হয় – ১৯২৫ সালে।
৫। কবি নজরুল গোটা মানব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে আগ্রহী – সাম্যের গান গেয়ে।
৬। ”—হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার চেয়ে সম্মানের আর কিছু নেই- শূন্যস্থানে বসবে- মানুষ।
৭। মানুষ পরস্পরকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে- ধর্ম-বর্ণ গোষ্ঠীর দোহাই দিয়ে।
৮। মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক মানুষেতে সুরাসুর- উক্তিটি – শেষ ফজলুল করিমের।
৯। ‘সাম্যবাদী কবিতায় কবি জোর দিয়েছেন – অন্তর ধর্মের ওপর।
১০। কবি ‘সাম্যবাদী কবিতায় কবি জোর দিয়েছেন – মানুষের হৃদয়কে।
১১। ‘মানুষের হৃদয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন তীর্থ নেই এই প্রতীতি কবির- স্বোপার্জিত অনুভব।
১২। ‘এ গানে মানুষে মানুষে সব ব্যবধান ঘুচে যাবে- এখানে কবি বলেছেন- সাম্যের গানের কথা।
১৩। মানবতার সুবাস ছড়ানো আত্মার উদ্বোধন পবিত্রতম করে তোলে – মানুষের জীবন।
১৪। সাম্যবাদী কবিতার অন্বিষ্ট – মানবতার সুবাস ছড়ানো আত্মার উদ্বোধন।
১৫। কবি নজরুল তার সাম্যবাদী কবিতায় আগ্রহী হয়েছেন – মানবিক মেলবন্ধনের এক অপূর্ব সংগীত পরিবেশন করতে।
১৬। ‘নজরুলের এই আদর্শটি আজও প্রতিটি সত্যিকার মানুষের প্রেরণা আদর্শটি হচ্ছে- মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি।
১৭। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল মানুষের সমান অধিকার থাকা উচিত- এ মতবাদকেই বলে – সাম্যবাদ।
১৮। জিন/মহাবীর প্রতিষ্ঠিত ধর্মমতাবলম্বীদের ধর্মকে বলা হয়- জৈন ধর্ম।
১৯। মানুষের বেদনা লাঘবে রাজ্য ত্যাগ করেন- শাক্যমুনী।
২০। ‘সাম্যবাদী কবিতায় শাক্যমুনি বলা হয়েছে – বুদ্ধদেবকে।
২১। বুদ্ধদেবের জন্ম – শাক বংশে।
২২। প্রাচীণ বা জু জাতি ও ধর্ম সম্প্রদয়ের মানুষদের বলা হয় – ইহুদী
২৩। বেদ, আত্মা ও পরলোকে বিশ্বাস করতেন না- চার্বাক নামক একজন বস্তুবাদী দার্শনিক।
২৪। ‘সাম্যবাদী কবিতায় তাজা ফুল ফোটে – পথে।
২৫। সকল রাজমুকুল লুটিয়ে পড়ে – হৃদয়ে এসে।
২৬। সকল দেবতার বিশ্ব দেউল – হৃদয়।
২৭। দেউল শব্দের অর্থ – দেবালয়/মন্দির।
২৮। ‘সাম্যবাদী কবিতায় হৃদয় কে বলা হয়েছে- বিশ্বদেউল।
২৯। কবি নজরুল দেবতা ঠাকুরকে খুঁজতে মানা করেছেন – মৃত পুঁথি কঙ্কালে।
৩০। যেখানে সব বাধা ব্যবধান এক হয়ে গেছে, সেখানে কবি গাইতে চান-সাম্যের গান।
৩১। ‘সাম্যবাদী কবিতায় হিয়াকে তুলনা করা হয়েছে – অমৃতের সাথে।
৩২। ‘সাম্যবাদী কবিতাটি অন্তর্গত- সাম্যবাদী কাব্যের।
৩৩। কবি নজরুল বাঁশির কিশোর বলেছেন – শ্রীকৃষ্ণকে।
৩৪। কনফুসিয়াস ছিলেন একজন- চীনা দার্শনিক।
৩৫। চার্বাক এর জন্মস্থান – পারস্যে।
৩৬। চার্বাক ছিলেন একজন- নাস্তিক/ বস্তুবাদী দার্শনিক।
৩৭। মুসা-ঈসা সত্যের পরিচয় পেয়েছিলেন – আপন হৃদয়ের মাঝেই।
৩৮। কোরানের সাম গান গেয়েছেন – আপন হৃদয়ের মাঝেই।
৩৯। রণভূমি হল – যুদ্ধক্ষেত্র।
৪০। ঝুট অর্থ – মিথ্যা (এটি একটি হিন্দি শব্দ)।
৪১। কবি নজরুল পেটে পিঠে, কাঁধে-মগজে বইতে বলেছেন-পুঁথি ও কিতাব।
৪২। ভারতীয় উপমহাদেশের আদিম নৃগোষ্ঠীবিশেষ হচ্ছে – সাঁওতাল ভীল।
৪৩। ‘কন্দর শব্দের আক্ষরিক অর্থ -পাহাড়ের গুহা।
৪৪। ‘সাম্যবাদী কবিতায় ‘কন্দর বলতে বোঝানো হয়েছে- হৃদয়ের গভীর গোপন স্থানকে।
কবিতার প্রথম ও শেষ লাইন :
প্রথম লাইন : “গাহি সাম্যের গান-”
শেষ লাইন : এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোন মন্দির-কাবা নাই।”
মোট লাইন সংখ্যা : ৩২ লাইন।
কবিতার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :
ধর্মগ্রন্থসমূহ : কোরান, বেদ, বাইবেল, ত্রিপিটক, আবেস্তা, গ্রন্থ সাহেব।
জাতিসমূহ : পার্সি, জৈন, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান, সাঁওতাল, ভীল, গারো।
পবিত্রস্থানসমূহ : কাশী, মথুরা, বৃন্দাবন, গয়া, জেরুজালেম, মদিনা, কাবা, নীলাচল (জগন্নাথক্ষেত্র)।
উপাসনালয়সমূহ : মসজিদ, মন্দির গির্জা
ব্যক্তিত্ব : ঈসা, মুসা, শাক্যমুণি, কন্ফুসিয়াস, চার্বাক চেলা।
বিদেশী শব্দ : নবি=আরবি শব্দ, কেতাব=আরবি শব্দ, ক্রিশ্চান=ইংরেজি শব্দ, ঝুট = হিন্দি শব্দ, মিতা=সংস্কৃত শব্দ।