বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস-প্রাচীন যুগ

0
1065

প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০)



বাংলা সাহিত্যের অতীত ইতিহাস সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বাংলা ভাষার উদ্ভব সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তবে বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে ‘চর্যাপদ’কে সবাই স্বীকার করেন। তাই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ‘চর্যাপদে’র কাল থেকে শুরু হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। কিন্তু ‘চর্যাপদে’র রচনাকাল সম্পর্কেও অনেকে একমত হতে পারেন নি। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে  ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে চর্যাপদ রচিত। অন্যদিকে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে চর্যাপদ রচিত। গবেষকগণ একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে যুগ বিভাগসমূহ চিহ্নিত করে থাকেন। সে হিসেবে বাংলা সাহিত্যের যুগকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

যথা:

  • ক) প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০)
  • খ) মধ্য যুগ (১২০১-১৮০০)
  • গ) আধুনিক যুগ (১৮০১-বর্তমান পর্যন্ত)

কিন্তু এ যুগ বিভাগের মধ্যে ১২০১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে অনেক সমালোচক মধ্যে যুগের অন্তর্ভূক্ত বলে স্বীকার করতে চান না। তাঁরা এ সময়কে (১২০১-১৩৫০) ‘অন্ধকার যুগ’ এবং (১৭৬০-১৮৬০) সময়কে ‘যুগ সন্ধিক্ষণ’ বলে মনে করেন। এবং ঈশ^রচন্দ্র গুপ্তকে বলা  হয় ‘যুগ সন্ধিক্ষণের’ কবি।

প্রত্যেকটা জিনিসের যেমন শুরু আছে তেমনি বাংলা সাহিত্যের লিখিত রুপেরও একটা শুরু আছে । একটু আলো আর একটু আধাঁরের সেই গ্রন্থের নামই চর্যাপদ।

চর্যাপদ ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে শ্রী মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ সালে তারই সম্পাদনায় ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ থেকে বই আকারে বের হয়। তখন এটির নামকরণ করা হয়েছিলো ‘হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষার রচিত বৌদ্ধ গান ও দোহা’।

  • বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম→চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
  • চর্যাপদ রচয়িতারা ছিলেন → দ্বাদশ শতাব্দীর
  • চর্যাপদ কিসের সংকলন?→গানের সংকলন।
  • চর্যাগুলো কারা রচনা করেন?→বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
  • চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়?→১৯০৭ সালে নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে।
  • চর্যাপদের আবিষ্কারক→মহামহোপাধ্যায় হর প্রসাদ শাস্ত্রী।
  • চর্যাপদ প্রথম প্রকাশিত হয়→১৯১৬ সালে (কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে)।
  • চর্যাপদের রচয়িতা কতজন?→২৩ জন (মতান্তরে ২৪জন)
  • চর্যাপদের মোট পদ রয়েছে→৫০টি (মতান্তরে ৫১টি)
  • এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত পদ সংখ্যা→সাড়ে ৪৬টি।
  • চর্যাপদের আদি কবি→লুইপা।
  • চর্যাপদের আদি কবি লুইপা এর প্রথম পদটি→ কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল, চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।
  • চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছে→কাহ্নপা, ১৩টি।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম রূপ হচ্ছে→কাব্য।
  • কাদের হাতে বাংলা সাহিত্যের সূচনা হয়?→বৌদ্ধদের।
  • চর্যাপদের ভাষা যে বাংলা তা প্রমাণ করেন? →ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
  • চর্যাপদ রচিত হয়→পাল শাসনামলে।
  • চর্যাপদে মোট প্রবাদ বাক্য পাওয়া যায়→৬টি
  • চর্যাপদে একজন কবিকে মহিলা কবি হিসেবে অনুমান করা হয় তার নাম→কুক্কুরী পা।
  • কোন কবি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ লেখেন?→ ভুসুকু পা ৮টি।
  • চর্যাপদে কোন কোন পদ পাওয়া যায়নি?→২৪ (কাহ্নপা রচিত), ২৫ (তন্ত্রীপা), ৪৮ (কুক্কুরীপা) ২৩ এর অর্ধেক (কুক্কুরী পা)
  • চর্যার পদগুলো কোন ভাষায় রচিত? (সন্ধ্যা বা সান্ধ)।
  • চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত?→ মাত্রাবৃত্ত।
  • অন্ধকার যুগ কোন সময়?→ (১২০১-১৩৫০)
  • অন্ধকার যুগে আবিষ্কৃত দুটি সাহিত্য কর্মের নাম→শূন্যপুরাণ ও সেক শুভোদয়া।
  • কোন সম্রাট তার অনুশাসনগুলো ব্রাহ্মী লিপিতে লেখান?→সম্রাট অশোক।
  • চর্যাপদের পদগুলো টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন → মুনিদত্ত


বিগত সালের প্রশ্ন

  • ০১। বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন কোনটি ?
  • উ: চর্যাপদ।
  • ০২। ‘চর্যাপদ’ কোন শাসনামলে রচিত হয় ?
  • উ: পাল শাসনামলে এটি রচিত হয়।
  • ০৩। চর্যাপদের অন্য নাম কী ?
  • উ: চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়।
  • ০৪। চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কত সালে ?
  • উ: ১৯০৭ সালে।
  • ০৫। চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন ?
  • উ: মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
  • ০৬। চর্যাপদের আবিষ্কৃত পদসংখ্যা কয়টি ?
  • উ: এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত পদসংখ্যা সাড়ে ৪৬ টি।
  • ০৭। পুঁথি খণ্ডিত থাকায় কোন পদগুলো পাওয়া যায় নি ?
  • উ: ২৪,২৫,৪৮ পদ সমূহ।
  • ১০। চর্যাপদ কোন ভাষায় রচিত হয় ?
  • উ: আদি বাংলা ভাষায় রচিত হয় বলে পণ্ডিতগণ মনে করেন।
  • ১১। চর্যাপদের মূল প্রতিপাদ্য কী ?
  • উ: বৌদ্ধ ধর্মের সাধন প্রণালী ও দর্শনতত্ত¡।
  • ১২। বাংলা ভাষার সবচেয়ে পুরানো পুঁথির নাম কী ?
  • উ: চর্যাপদ।
  • ১৩। চর্যাপদ কোথা থেকে পাওয়া যায় ?
  • উ: নেপালের রাজদরবার থেকে।
  • ১৪। চর্যাপদ কিসের সংকলন ?
  • উ: সহজিয়া বৌদ্ধদের সাধন পদ্ধতি সম্বলিত গানের সংকলন।
  • ১৫।  চর্যাপদের আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কী উপাধি পান?
  • উ: মহাহোপাধ্যায় ।
  • ১৬।  বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম ?
  • উ: চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
  • ১৭। চর্যাপদ কিসের সংকলন ?
  •  উ: গানের সংকলন।
  • ১৮।  চর্যাগুলো কারা রচনা করেন ?
  • উ:  বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
  • ১৯।  চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ?
  • উ:  ১৯০৭ সালে নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে।
  • ২০।  চর্যাপদের আবিষ্কারক ?
  •   উ: মহামহোপাধ্যায় হর প্রসাদ শাস্ত্রী।
  • ২১।  চর্যাপদ প্রথম প্রকাশিত হয় ?
  • উ:  ১৯১৬ সালে (কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে)।
  • ২২।  চর্যাপদের রচয়িতা কতজন ?
  •  উ:  ২৪ জন (মতান্তরে ২৩ জন)
  • ২৩।  চর্যাপদের মোট পদ রয়েছে ?
  • উ:   ৫০ টি (মতান্তরে ৫১টি)
  • ২৪।   এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত পদ সংখ্যা ?
  • উ: সাড়ে ৪৬টি।
  • ২৫।   চর্যাপদের আদি কবি ?
  • উ:   লুইপা।
  • ২৬।   চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছে ?
  • উ:   কাহ্নপা, ১৩টি।
  • ২৭।   বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম রূপ হচ্ছে ?
  • উ: কাব্য।
  • ২৮।  কাদের হাতে বাংলা সাহিত্যের সূচনা হয় ?
  • উ: বৌদ্ধদের।
  • ২৯।  চর্যাপদের ভাষা যে বাংলা তা প্রমাণ করেন ?
  • উ: ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
  • ৩০।   চর্যাপদে মোট প্রবাদ বাক্য পাওয়া যায় ?
  •  উ:  ৬টি
  • ৩১।   চর্যাপদে একজন কবিকে মহিলা কবি হিসেবে অনুমান করা হয় তার নাম ?
  • উ: কুক্কুরী পা।
  • ৩২।   কোন কবি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ লেখেন ?
  • উ:  ভুসুকু পা ৮টি।
  • ৩৩।   চর্যাপদে কোন কোন পদ পাওয়া যায়নি ?
  • উ: ২৪ (কাহ্নপা রচিত), ২৫ (তন্ত্রীপা), ৪৮ (কুক্কুরীপা) ২৩ এর অর্ধেক (কুক্কুরী পা)
  • ৩৪।  চর্যার পদগুলো কোন ভাষায় রচিত?
  •   উ: সন্ধ্যা বা সান্ধ।
  • ৩৫।  চর্যাপদ আধুনিক কোন ছন্দে রচিত ?
  • উ: মাত্রাবৃত্ত।
  • ৩৬।   অন্ধকার যুগ কোন সময় ?
  • উ: ১২০১-১৩৫০
  • ৩৭।   অন্ধকার যুগে আবিষ্কৃত দুটি সাহিত্য কর্মের নাম ?
  • উ: শূন্যপুরাণ ও সেক শুভোদয়া।
  • ৩৮।   কোন সম্রাট তার অনুশাসনগুলো ব্রাহ্মী লিপিতে লেখান ?
  • উ: সম্রাট অশোক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here