বিলাসী- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

0
4582
বিলাসী- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বিলাসী- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১। জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দ।
২। জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে।
৩। মৃত্যু ১৬ জানুয়ারি, ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ।
৪। সাহিত্যবিষয়ক উপাধি অপরাজেয় কথাশিল্পী।
৫। প্রথম মুদ্রিত রচনা কুন্তলীন পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘মন্দির’ নামে একটি গল্প।
৬। প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯১৩)।
৭। আত্মচরিতমূলক উপন্যাস শ্রীকান্ত (চারখণ্ডে)।
৮। উপন্যাস বড়দিদি (১৯১৩); পথের দাবী (১৯১৬); পল্লীসমাজ (১৯১৬); পরিণীতা (১৯১৪); দেনাপাওনা (১৯২৩); চরিত্রহীন (১৯১৭); গৃহদাহ (১৯১৪); বিরাজ বৌ (১৯১৪); দেবদাস (১৯১৭); অরক্ষণীয়া (১৯১৬); চন্দ্রনাথ (১৯১৬); নববিধান (১৯২৪); নিষ্কৃতি (১৯১৭); পণ্ডিতমশাই (১৯১৪); বামুনের মেয়ে (১৯২০); বারোয়ারী উপন্যাস (১৯২১); বিপ্রদাস (১৯৩৫); বৈকুণ্ঠের উইল (১৯১৬); ভালোমন্দ (১৯১৬); রসচক্র (১৯৩৬); শুভদা (১৯৩৮); শেষপ্রশ্ন (১৯৩১); শেষের পরিচয় (১৯৮৬); শ্রীকান্ত- ১ম পর্ব (১৯১৭), শ্রীকান্ত- ২য় পর্ব (১৯১৮), শ্রীকান্ত- তয় পর্ব (১৯২৭), শ্রীকান্ত – ৪র্থ পর্ব (১৯৩৩)।
৯। ছোটগল্পগ্রন্থ অনুরাধা, সতী ও পরেশ (১৯৩৪); কাশীনাথ (১৯১৭); ছবি (১৯২০); ছেলেবেলার গল্প (১৯৩৮); বিন্দুর ছেলে (১৯১৪); মেজদিদি (১৯১৫); স্বামী (১৯১৮); হরিলক্ষী (১৯২৬)।
১০। প্রবন্ধগ্রন্থ তরুণের বিদ্রোহ (১৯২৯), নারীর মূল্য (১৯২৪), স্বদেশ ও সাহিত্য (১৯৩২), শরৎচন্দ্র ও ছাত্র সমাজ (১৯৩৮)।

রচনার উৎসঃ
⇒ বিলাসী গল্পটি শরৎচন্দ্রের ‘ছবি’ গল্প গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।
⇒ ‘বিলাসী’ গল্পটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়- ভারতী পত্রিকায় (বৈশাখ-১৩২৫)
⇒ ‘বিলাসী’ গল্পটি ‘ন্যাড়া’ নামের এক যুবকের নিজের জবানিতে বিবৃত গল্প।
⇒ ‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত হয়েছে- দুই ব্যতিক্রমধর্মী মানব-মানবীর চরিত্রের অসাধারণ প্রেমের মহিমা।

লেখক সম্পর্কে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিনী স্বর্ণপদক লাভ করেন- ১৯২৩ সালে
⇒ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কে ডি লিট ডিগ্রী প্রদান করে- ১৯৩৬ সালে।
⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অসমাপ্ত উপন্যাস ‘শেষের পরিচয়’, আগামীকাল, জাগরণ।
⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ (১৯২৬) উপন্যাস সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়।
⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অনীলাদেবী ছদ্মনামে ‘নারীর মূল্য’ নিবন্ধ গ্রন্থটি লিখেন।
⇒  ‘মহেশ’ ছোট গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত? উত্তর : হরিলক্ষী (১৯২৬)।
⇒ ‘রামের সুমতি’ গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত? উত্তর : ছবি (১৯২০)।

শব্দার্থ ও টীকাঃ
⇒ এন্ট্রাস – প্রবেশিকা পরীক্ষা। বর্তমানে মাধ্যমিক পরীক্ষা।
⇒ মা-সরস্বতী – হিন্দু পুরাণ অনুসারে বিদ্যা ও কলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী, বীণাপাণি।
⇒ উপরের আদালতের হুকুমে – স্রষ্টার নির্দেশে।
⇒ রম্ভার কাঁদি – কলার ছড়া।
⇒ কলি – হিন্দু পুরাণে বর্ণিত চার যুগের শেষ যুগ। পুরাণ মতে, এ যুগে অন্যায়, অসত্য ও অধর্মের বাড়াবাড়ি ঘটবে।
⇒ খরিশ গোখরা – খুব বিষাক্ত এক প্রকার সাপ।
⇒ যমরাজ – মৃত্যু।
⇒ দেব বাবু – ভূদেবচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৮২৫-১৮৯৪খ্রি:) উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অন্যতম  পথিকৃৎ। মাইকেল মধুসূদন দত্তের সহপাঠী।
⇒ হুমায়ুন – মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবরের পুত্র এবং দ্বিতীয় মুঘল সম্রাট। তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের পিতা।
⇒ ফোর্থ ক্লাশ – এখনকার সপ্তম শ্রেণী।
⇒ সেকেণ্ড ক্লাস – এখনকার নবম শ্রেণী।
⇒ কামস্কাট্কা – প্রকৃত উচ্চারণ কামচাট্টকা রাশিয়ার অন্তর্গত সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত উপদ্বীপ। বহু-উষ্ণ প্রস্রবণ ও ১৭টি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি আছে এখানে। প্রচুর স্যামন মাছ পাওয়া যায় বলে দ্বীপটি স্যামন মাছের দেশ নামে পরিচিত। রাজধানী শহর-পেত্রো পাঠলোভস্ক।
⇒ থার্ড ক্লাস – বর্তমান অষ্টম শ্রেণী। সেকালে মাধ্যমিক শিক্ষার শ্রেণী হিসাব করা হত ওপর থেকে নিচের দিকে। দশম শ্রেণী তখন ছিল ফার্স্ট ক্লাস, নবম শ্রেণী ছিল সেকেণ্ড ক্লাস।
⇒ ভুজি উচ্ছুগ্যু – মৃতের আত্মার সদ্গতি কামনা করে ব্রাহ্মনকে যে ভোজ্য উৎসর্গ করা হয় তা।
⇒ পারশিয়া – পারস্য বা ইরান দেশ।
⇒ প্রত্ততাত্ত্বিক – পুরাতত্ত্ববিদ, প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ, মুদ্রালিপি, ইত্যাদি থেকে ঐতিহাসিক তথ্য নির্ণয়ের বিদ্যায় পণ্ডিত ব্যক্তি।
⇒ মালো – সাপের ওঝা। এরা সাপ ধরতে, সাপের কামড়ের চিকিৎসায় ও সাপের খেলা দেখাতে পটু। এসব করে এরা জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
⇒ বারওয়ারি – অনেকের সমবেত চেষ্টায় যা করা হয়, সর্বজনীন।
⇒ নিকা – বিয়ে। এখানে তাচ্ছিল্যসূচক প্রয়োগ।
⇒ বিলাত প্রভৃতি স্লেচ্ছদেশ – ইংল্যান্ডসহ ইউরোপিয় দেশসমূহে যেখানে হিন্দু সমাজে আচার ধর্মের কোন বালাই নেই।
⇒ সদক্ষিণা – পুরোহিতের সম্মানী বা সেলামি সহকারে।
⇒ চক্র – ফণা।
⇒ কাশী – কাশী ভারতের উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত সুবিখ্যাত ও সুপ্রাচীন তীর্থক্ষেত্র।
⇒ ফলাহার – জলযোগ, ফলার।
⇒ পঞ্চমুখ – পাঁচ মুখে যে কথা বলে। মুখর।
⇒ মনসা – হিন্দু ধর্মানুসারে সাপের দেবী।
⇒ এডেন – লোহিত সাগর ও আরব সাগরের প্রবেশ পথে আরব দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বিখ্যাত বন্দর।
⇒ মন্ত্রের দ্রষ্টা – যিনি প্রথম মন্ত্র লাভ করেন। যার কাছে প্রথম মন্ত্র আভির্ভূত হয় তিনিই মন্ত্রদ্রষ্টা।
⇒ সত্যযুগ – হিন্দু পুরাণে বর্ণিত চার যুগের প্রথম যুগ, যখন সমাজে অসত্য অন্যায় একেবারেই ছিল না বলে ধারণা।
⇒ প্রকৃতিস্থ – স্বাভাবিক।
⇒ কামাখ্যা – ভারতের আসাম রাজ্যে অবস্থিত প্রাচীন তীর্থস্থান। তান্ত্রিক সাধক ও উপাসকদের তন্ত্রমন্ত্র সাধনের জন্য বিখ্যাত।
⇒ বহুদর্শী – জ্ঞানী, অনেক দেখেছেন এমন। বহু অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।
⇒ বিষহরির দোহাই – মন্ত্রশক্তি/ মনসার দোহাই।
⇒ বঁইচি – পিয়াল জাতীয় ক্ষুদ্র ফল বিশেষ।
⇒ তিলার্ধ – তিল পরিমাণ সময়ের অর্থ।
⇒ মৃত্যুঞ্জয় – মৃত্যুঞ্জয় নামের অর্থ যিনি মৃত্যুকে জয় করেন। বিষকণ্ঠ মহেশ্বরের (শিব) অন্যনাম মৃত্যুঞ্জয়। কারণ বিষ রূপ মৃত্যু তার কোন ক্ষতি করতে পারে না।
⇒ পিণ্ডি – শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে মৃতের উদ্দেশ্যে দেয় চালের গোলাকার ডেলা।

গুরুত্বপূর্ণ লাইন ও তথ্যঃ
⇒ মৃত্যুঞ্জয় কোন বংশের ছেলে?- মিত্তির।
⇒ মৃত্যুঞ্জয়ের আত্মীয়দের মধ্যে শুধুু কে বেঁচে ছিলো?- জ্ঞাতি খুড়া।
⇒ মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার কাজ ছিল- মৃত্যুঞ্জয়ের নানাবিধ দুর্নাম রটনা করা।
⇒ মৃত্যুঞ্জয়ের কী বাগান ছিল?- আম-কাঠালের বাগান।
⇒ মৃত্যুঞ্জয়ের বাগানের পরিধি কতুটুকু- কুড়ি পঁচিশ বিঘার বাগান। (২০-২৫ বিঘা)।
⇒ ‘কিন্তু এই পাপের দণ্ড একদিন আমাকে ভাল করিয়াই দিতে হইল।’- উক্তিটি- ন্যাড়ার।
⇒ বিলাসী গল্পে কোন কোন ফলের উলে­খ আছে? আম, কাঁঠাল, বঁইচি (রম্ভা), আনারস, খেজুর ইত্যাদি।
⇒ ‘বিলাসী’ গল্পে কোন উপদ্বীপের উলে­খ আছে? কামস্কাট্কা (রাশিয়ায়)।
⇒ ‘বিলাসী’ গল্পে উলে­খিত এডেন বন্দর কেন বিখ্যাত? সামুদ্রিক লবন তৈরির জন্য।
⇒ ‘বিলাসী’ গল্পে কোন কোন দেশের কথা উলে­খ আছে? সাইবেরিয়া, পারসিয়া, (ইরান দেশ), বিলাত।
⇒ ‘বিলাসী’ গল্পে কোন সম্রাটের প্রসঙ্গ আছে? হুমায়ুন।
⇒ বিলাসী কিভাবে আত্মহত্যা করেছিল? বিষ পান করে।
⇒ ‘বিলাসী’ গল্পে কোন লেখকের উলে­খ আছে? ভূদেবচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
⇒ ‘বাবা আমাকে বাবুর সাথে নিকা দিয়াছে, জানো?’ উক্তিটি- বিলাসীর।
⇒ ন্যাড়া দশ-বারোজন সঙ্গীসহ মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ি কেন গেল? বিলাসীকে গ্রাম থেকে বের করে দিতে।
⇒ বিলাসী গল্পটি কার মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে? ন্যাড়া।
⇒ বিলাসী গল্পে ন্যাড়া আসলে কে? লেখক স্বয়ং নিজে; অর্থ্যাৎ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
⇒ অনেক দিন তাহার মিষ্টান্নের সন্ধ্যায় করিয়াছি? কার মিষ্টান্নের কথা বলা হয়েছে? মৃত্যুঞ্জয়ের।
⇒ মৃত্যুঞ্জয় শয্যাগত ছিল- দেড় মাস।
⇒ ‘গেল গেল গ্রামটি রসাতলে গেল।’ উক্তিটি মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়োর।
⇒ তাহার ফোর্থ ক্লাসে পড়ার ইতিহাস ও কখনো শুনি নাই, সেকেণ্ড ক্লাসে উঠিবার খবর ও কখনো পাই নাই।’- ⇒ এখানে কার কথা বলা হয়েছে?- মৃত্যুঞ্জয়।
⇒ ‘স্বদেশের মঙ্গলের জন্য সমস্ত অকাতরে সহ্য করিয়া তাকে হিড়হিড় করিয়া টানিয়া লইয়া চলিলাম।’ উক্তিটি- ন্যাড়ার।
⇒ ‘না পেল এক ফোটা আগুন, না পেল একটি পিণ্ডি- না হলো- একটা ভুজি উচ্ছেুগ্যু- কার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে? – মৃত্যুঞ্জয়।
⇒ ‘তাহাকে কখনো কাহারও সহিত যাচিয়া আলাপ করিতে দেখি নাই।’- কাকে দেখে নাই?- মৃত্যুঞ্জয়কে।
⇒ ‘শাস্ত্রমতে সে নিশ্চয় নরকে গিয়াছে।’-কে? বিলাসী।
⇒ লেখক কতদিন মৃত্যুঞ্জয়ের খবর নেননি? প্রায় মাস দুই।
⇒ ‘টিকিয়া থাকা চরম সার্থকতা নয় এবং অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে, কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।’ উক্তিটি বিলাসী গল্পের।
⇒ ‘চরিত্রেই বল, ধর্মই বল, সমাজেই বল, আর বিদ্যাতেই বল, শিক্ষা একেবারেই পুরো হইয়া আছে, এখানে শুধু ইংরেজকে কষিয়া গালিগালাজ করিতে পারিলে দেশটা উদ্ধার হইয়া যায়।’ কোন রচনার অন্তর্গত?- বিলাসীর।
⇒ ‘যে বস্তুটি এই অসাধ্য সাধন করিয়া তুলিয়াছিল তাহার পরিচয় যদিও সেদিন পাই নাই, কিন্তু আর একদিন পাইয়াছিলাম।’ উক্তিটি বিলাসী সম্পর্কে ন্যাড়ার।
⇒ ‘সে তাহার নামজাদা শ্বশুরের শিষ্য, সুতরাং মস্তলোক’-কে? মৃত্যুঞ্জয়।
⇒ ‘কাল করিল যে ঐ ভাত খাইয়া।’ এখানে অন্নপাপ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
⇒ ‘বিলাসী’ গল্পে শরৎচন্দ্র তুলে ধরেছেন- মানব প্রেমের মহিমা।
⇒ ‘বিলাসী’ গল্পে উলে­খ আছে- সাপ, শেয়াল, কুকুর, হস্তি, তেলাপোকা।
⇒ ‘নন্দগোপাল’ শব্দের অর্থ- অতি আদুরে।
⇒ ‘আর কায়েতের ছেলের সঙ্গে সাপুড়ের মেয়ের নিকা- এতো একটা হাসিয়া উড়াইবার কথা।’ এখানে কায়েতের ছেলে হচ্ছে মৃত্যুঞ্জয় এবং সাপুড়ের মেয়ে হচ্ছে বিলাসী।
⇒ ‘মৃত্যুঞ্জয়ের জাত ছিল কায়েত (কায়স্থ)।
⇒ মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার মতে কোন গুলো খেলে অন্নপাপ হয় না-লুচি, সন্দেশ, পাঠার মাংস।
⇒ ‘নালতের মিত্তির বলিয়া সমাজে আর তার মুখ বাহির করিবার জো রহিল না।’ উক্তিটি মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়োর।
⇒ ‘ধুচুনি’ শব্দের অর্থ বাঁশের ঝুড়ি।
⇒ ‘গেল, গেল গ্রাম এবার রসাতলে গেল’- উক্তিটি কে করেছেন?- মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া।
⇒ মৃত্যুঞ্জয় কত মাস শয্যায় ছিল- আড়াই মাস।
⇒ ‘ঠাকুর এসব ভয়ঙ্কর জানোয়ার, একটু সাবধানে নাড়াচাড়া করো।’ উক্তিটি ন্যাড়ার প্রতি বিলাসীর।
⇒ ‘তাহার হৃদয় জয় করিয়া দখল করার আনন্দটাও তুচ্ছ নয় সে সম্পদও অকিঞ্চিতকর নহে।’ তাহা হৃদয় বলতে বোঝানো হয়েছে-বিলাসীর হৃদয়।
⇒ ‘কিন্তু মুখের প্রতি চাহিবামাত্র টের পাইলাম, বয়স যাহাই হোক, খাটিয়া খাটিয়া আর রাত জাগিয়া জাগিয়া ইহার শরীরে আর কিছু নেই।’ উক্তিটি- বিলাসীর প্রতি ন্যাড়ার।
⇒ কিন্তু সে আজ্ঞা যে ম্যাজিস্ট্রেটের আজ্ঞা নহে এবং সাপের বিষ যে বাঙালীর বিষ নয়, তাহা আমিও বুঝিয়াছিলাম। উক্তিটি- ন্যাড়ার।
⇒ অবশ্য দখল একদিন তিনি পাইয়াছিলেন বটে, কিন্তু সে জেলা আদালতে নালিশ করিয়া নয়, উপরের আদালতের হুকুমে। উক্তিটি- মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়োর উদ্দেশ্যে।
⇒ ‘ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসী ফুলের মত, হাত দিয়া এতটুকু স্পর্শ করিলে, এতটুকু ⇒ নাড়াচাড়া করিতে গেলেই ঝড়িয়া পড়িবে।’ উক্তিটি- বিলাসীকে উদ্দেশ্য করে।
⇒ ‘তুমি না আগলালে সে রাত্রিতে তারা আমাকে মেরে ফেলতো।’ উক্তিটি- ন্যাড়ার প্রতি বিলাসীর।
⇒ ‘রাস্তা পর্যন্ত তোমাকে রেখে আসব কি? উক্তিটি-ন্যাড়ার প্রতি বিলাসীর।
⇒ ‘করুকগে সবাই আমাদের’র খাবার ভাবনা নেই, আমরা কেন মিছিমিছি লোক ঠকাইতে যাই।’ উক্তিটি মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি বিলাসীর।
⇒ ‘চার ক্রোশ হাঁটা বিদ্যা যে সব ছেলেদের পেটে, তারাই’ত একদিন বড় হইয়া সমাজের মাথা হয়। দেবী বীণাপাণির বরে সংকীর্ণতা তাহাদের মধ্যে আসবে কী করিয়া।’ উক্তিটি-ন্যাড়ার।
⇒ ‘ওরে বাপরে! আমি একলা থাকতে পারবো না।’ উক্তিটি- ন্যাড়ার এক আত্মীয়ের।
⇒ অন্ন পাপ। বাপ রে! এর কি আর প্রায়শ্চিত্ত আছে। উক্তিটি- গ্রামবাসীর, মৃত্যুঞ্জয় সম্পর্কে ।
⇒ ভূদেবচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ‘পারিবারিক’ প্রবন্ধের উলে­খ আছে কোন রচনায়? -বিলাসী।
⇒ ‘কাগজ তো ইঁদুরেও আনতে পারে’। বিলাসী গল্পে এই উক্তিটি কে করেছে? – মৃত্যুঞ্জয়।
⇒ ‘এমনি করিয়া এত সহজে পুরুষকে যাহার টানিয়া নামাইতে পারে তাহারা কি এমনিই অবলীলাক্রমে তাহাদের ঠেলিয়া উপরে তুলিতে পারে নাই।’ উক্তিটি কোন গল্পের? – বিলাসী।
⇒ ‘বিলাসী গল্পে সাপ ধরার বায়না এলে বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে কি করতেন? – বাধা দিতেন।
⇒ “সাপ একটা নয় এক জোড়া তো আছে বটেই, হয়তো বা বেশি থাকতে পারে।” উক্তিটি করেছেন- বিলাসী।
⇒ মৃত্যুঞ্জয় অজ্ঞান অবস্থায় ছিল (১০-১৫) দশ/ পনের দিন।
⇒ ‘সে গুলি খায়’ – কার সম্পর্কে বলা হয়েছে?- মৃত্যুঞ্জয়।
⇒ ‘গুলি’ শব্দের অর্থ- আফিম থেকে প্রস্তুত মাদক দ্রব্য বিশেষ।
⇒ ‘বিলাসীর আত্মহত্যার ব্যাপারটা অনেকের নিকট কি মনে হয়েছিল?- পরিহাসের।
⇒ ‘বিষহরি শব্দের অর্থ- হিন্দুদেবী মনসা।
⇒ পঞ্চমুখ – প্রশংসামুখর হওয়া।
⇒ দোহাই মানা – নজির দেখানো
⇒ রসাতলে যাওয়া – অধঃপাতে যাওয়া।
⇒ লাভের অঙ্কে শূণ্য – ফলাফল একেবারেই লাভজনক না হওয়া।
⇒ কাঁটা দেওয়া – বাধা সৃষ্টি করা।
⇒ নাছোড়বান্দা – উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মরিয়া হয়ে পিছু লেগে থাকা এমন লোক
⇒ মাথা হেঁট করা – লজ্জায় বা বিনয়ে মাথা নত করা।
⇒ বুক ফাটা – হৃদয়বিদারক
⇒ অকালকুষ্মাণ্ড – অকর্মণ্য, অকেজো। পরিবারের অনিষ্টকারী ব্যক্তি।
⇒ পাথর হয়ে যাওয়া – স্তব্ধ হয়ে পড়া।

আলোচ্য অধ্যায়ের গুরুত্ত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্নাবলীঃ

১। কোন সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
ক. ১৯২৬
√  খ. ১৯৩৬
গ. ১৯৪৬
ঘ. ১৯৩৮
ঙ. ১৯২৮
২। মৃত্যুঞ্জয়ের আমবাগানের আয়তন-
ক. দশ-পনের বিঘা
√  খ. কুড়ি-পচিশ বিঘা
গ. পঁচিশ-তিরিশ বিঘা
ঘ. তিরিশ-চলি­শ বিঘা
৩। নিচের কোন গ্রন্থটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়?
√  ক. চরিত্রহীন
খ. নীল দর্পন
গ. জমিদার দর্পন
ঘ. ভ্রান্তিবিলাস
ঙ. ক্ষীরের পুতুল
৪। বিলাসীর হাতে ভাত খেয়ে মৃত্যুঞ্জয় কি ধরনের পাপ করেছিল?
√  ক. অন্নপাপ
খ. খাদ্যপাপ
গ. ধর্ম ত্যাগের পাপ
ঘ. ধর্ম গ্রহণের পাপ
৫। ‘সহমরণ’ প্রসঙ্গ কোন রচনার অন্তর্গত?
√  ক. বিলাসী
খ. হৈমন্তী
গ. অর্ধাঙ্গী
ঘ. সৌদামিনী মালো
৬। রম্ভার কাঁদি’ শব্দের অর্থ-
ক. ব্যথিত
খ. অশ্রু সজল
√  গ. কলার ছড়া
ঘ. বেতের ছড়া
ঙ. ক্রন্দনরত
৭। ‘ম্লেচ্ছ দেশে পুরুষদের মধ্যে একটা কুসংস্কার আছে, স্ত্রীলোক দুর্বল এবং নিরূপায় বলিয়া তাহার গায়ে হাত তুলিতে নাই- কথাটি যে গল্প হতে নেয়া হয়েছে, তার নাম-
ক. হৈমন্তী
√  খ. বিলাসী
গ. অর্ধাঙ্গী
ঘ. শকুন্তলা
ঙ. যৌবনের গান
৮। কোনটি শরৎচন্দ্রের উপন্যাস নয়?
ক. পল্লী সমাজ
খ. দেনা-পাওনা
গ. বিপ্রদাস
√  ঘ. চার অধ্যায়
৯। ‘বিলাসীর বাপকে সংবাদ দিবার জন্য লোক গেল।’- কেন?
ক. বিলাসী মারা গিয়েছিল বলে
খ. মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু সংবাদ জানানোর জন্য
√  গ. মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচানোর জন্য
ঘ. মৃত্যুঞ্জয়কে বিলাসীর কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য
১০। নিচের কোনটি শরৎচন্দ্রের রচনা নয়?
ক. গৃহদাহ
খ. পথের দাবী
√  গ. চন্দ্রশেখর
ঘ. দত্তা
ঙ. চরিত্রহীন
১১। খুড়ার ভাষায় মৃত্যুঞ্জয়ের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল-
ক. বিলাসীকে বিয়ে করা
খ. সাপুড়ে হওয়া
√  গ. বিলাসীর হাতে ভাত খাওয়া
ঘ. সাপ ধরে বিক্রি করা
১২। বিষহরির দোহাই বুঝি বা আর খাটে না।’ এটি বোঝা গেল কখন?
ক. মৃত্যুঞ্জয়কে যখন সাপে কামড় দিল
খ. যখন মৃত্যুঞ্জয়কে শিকড়-বাকড় খাওয়ানো হল
গ. যখন মৃত্যুঞ্জয়ের হাতে মাদুলি বেঁধে দেওয়া হল
√  ঘ. যখন মৃত্যুঞ্জয় বমি করল
১৩। ‘সে তাহার নামজাদা শ্বশুরের শিষ্য, সুতরাং মস্ত লোক।’- উক্তিটির লেখক-
ক. শওকত ওসমান
√  খ. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ. প্রমথ চৌধুরী
ঘ. জহির রায়হান
ঙ. মুহম্মদ আবদুল হাই
১৪। ‘বিলাসী’ গল্পে শরৎচন্দ্র ফুটিয়ে তুলেছেন-
ক. মানব প্রেমের অপূর্ব মহিমা
√  খ. সামাজিক সংকীর্ণতা
গ. সাম্প্রদায়িকতার বিষময় ফল
ঘ. বৈবাহিক সম্পর্কের জটিলতা
ঙ. সামাজিক অনৈক্য
১৫। ‘পাকা দুই ক্রোশ পথ হাঁটিয়া স্কুলে বিদ্যা অর্জন করিতে যাই।’ এ বাক্যে উলি­খিত পথের দৈর্ঘ্য মাইলে প্রকাশ করলে বলতে হবে:
ক. দুই মাইল
খ. দুই মাইলের কিছু কম
গ. দুই মাইলের অনেক কম
√  ঘ. দুই মাইলের কিছু বেশি
ঙ. দুই মাইলের অনেক বেশি
১৬। ‘বিলাসী’ গল্পে সাপ ধরার বায়না এলে বিলাসী কি করতেন?
ক. খুশি হতেন
খ. উৎসাহিত করতেন
√  গ. বাধা দিতেন
ঘ. পিতাকে ডেকে আনতেন
১৭। ‘কাগজ তো ইঁদুরেও আনতে পারে’- বিলাসী গল্পে এই উক্তি কার?
ক. বিলাসীর
√  খ. মৃত্যুঞ্জয়ের
গ. খুড়ার
ঘ. মৃত্যুঞ্জয়ের বন্ধুর
১৮। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে-
ক. ১৯২৭ সালে
√  খ. ১৯৩৬ সালে
গ. ১৯৩৩ সালে
ঘ. ১৯৪০ সালে
ঙ. ১৯৪২ সালে
১৯। বিলাসী গল্পে বিলাসীর মৃত্যু হয় কীভাবে?
ক. অসুখে
খ. অনাহারে
গ. সর্পদংশনে
√  ঘ. বিষপানে
২০। মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়তো?
ক. ফোর্থ ক্লাসে
√  খ. থার্ড ক্লাসে
গ. সেকেণ্ড ক্লাসে
ঘ. ফিফথ্ ক্লাসে
২১। কোন্টি শরৎচন্দ্রের উপন্যাস নয়?
ক. শ্রীকান্ত
খ. দত্তা
গ. পথের দাবি
√  ঘ. পথের প্যাঁচালী
২২। অকাল কুষ্মাণ্ডটা একটা সাপুড়ের মেয়ে নিকা করিয়া ঘরে আনিয়াছে। উক্তিটি কার সম্পর্কে?
ক. বিলাসী
খ. ছোট বাবু
গ. খুড়া
√  ঘ. মৃত্যুঞ্জয়
২৩। ‘আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনো করো না।’ উক্তিটি কোন গল্প থেকে নেয়া হয়েছে?
ক. শকুন্তলা
খ. হৈমন্তী
√  গ. বিলাসী
ঘ. ভাষার কথা
২৪। কোনটি শরৎচন্দ্রের উপন্যাস নয়?
ক. পল্লীসমাজ
খ. দেনাপাওনা
গ. দত্তা
ঘ. দেবদাস
√  ঙ. চোখের বালি
২৫। ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
√  ক. ভারতী
খ. বঙ্গদর্শন
গ. সাধনা
ঘ. মোসলেম ভারত
ঙ. ধূমকেতু
২৬। ‘বিলাসী’ গল্পটি সমাপ্ত হয়েছিল-
ক. নায়ক নায়িকার মিলনের মাধ্যমে
খ. নায়ক নায়িকার বিচ্ছেদের মাধ্যমে
√  গ. নায়কের মৃত্যুর মাধ্যমে
ঘ. নায়িকার মৃত্যুর মাধ্যমে
২৭। ‘ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো। হাত দিয়া এতটুকু স্পর্শ করিলে, এতোটুকু নাড়াচাড়া করিতে গেলেই ঝরিয়া পড়িবে।’ এই উক্তিটি কোন গল্পে আছে?
√  ক. বিলাসী
খ. একুশের গল্প
গ. সৌদামিনী মালো
ঘ. একই সমতলে
২৮। ‘অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।’- কোন রচনার অংশ?
ক. হৈমন্তী
√  খ. বিলাসী
গ. অর্ধাঙ্গী
ঘ. সৌদামিনী মালো
২৯। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন সালে মৃত্যুবরণ করেন?
ক. ১৯৩৭
√  খ. ১৯৩৮
গ. ১৯৩৯
ঘ. ১৯৪০
৩০। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস-
ক. বৈকুণ্ঠের উইল
√  খ. বড়দিদি
গ. বিন্দুর ছেলে
ঘ. রামের সুমতি
৩১। ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় কতদিন শয্যাগত ছিল?
ক. একমাস
খ. একমাস সাতদিন
গ. আড়াই মাস
√ ঘ. দেড় মাস
৩২। শরৎচন্দ্রের ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
ক. যমুনা
খ. সবুজপত্র
গ. বঙ্গদর্শন
ঘ. ভারতী
৩৩। ‘তাহার হাতে উল্টা পিঠ দিয়ে র্ঝর্ঝ করিয়া রক্ত পড়িতেছিল।’ এখানে কার হাতের কথা বলা হয়েছে?
ক. মৃত্যুঞ্জয়ের
√  খ. বিলাসীর
গ. ন্যাড়ার
ঘ. শাহজীর
৩৪। মৃত্যুঞ্জয়ের জাত কী ছিল?
ক. সদ্ব্রাহ্মণ
√  খ. কায়স্থ
গ. শূদ্র
ঘ. বৈশ্য
৩৫। শরৎচন্দ্রের ‘বিলাসী’ গল্পে হুমায়ূনের বাপের নাম কী লেখা হয়েছিল?
ক. বাবর
খ. আকবর
গ. শের খাঁ
√ ঘ. তোগলক খাঁ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here